BrahmiMiscellaneous 

অসাধারণ গুণ-সম্পন্ন ভেষজ- ব্রাহ্মী শাক

কাজকেরিয়ার অনলাইন নিউজ ডেস্ক : ব্রাহ্মী শাকের অনেকগুণ। আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুযায়ী বলা হয়, এটি অসাধারণ গুণ-সম্পন্ন ভেষজ। মেধা ও আয়ুবর্ধক, মৃগীরোগ নাশক হিসেবে চিহ্নিত। বর্তমানে ব্রাহ্মীর সিরাপ, বটি, ক্যাপসুল বাজারে পাওয়া যায়। তবে সবচেয়ে উপকার পাওয়া যায়, কাঁচা শাক থেঁতো করে রস পান করলে। আলু-বেগুন সহযোগে রান্না করেও শাকটি খাওয়া যায়। ঘিয়ে ভেজে খাওয়া যেতে পারে।

আয়ুর্বেদ চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বুদ্ধি-স্মৃতি-মেধা হ্রাস ও পঠন-পাঠনে অমনোযোগিতায় এই শাকের ব্যবহার করা যেতে পারে। পড়ার বিরাম নেই বা মনে থাকছে না কোনও কিছু, এমতাবস্থায় বয়স অনুপাতে ১-২ চা-চামচ ব্রাহ্মী রস আধ চা-চামচ মধুর সঙ্গে মিশিয়ে সকালে টিফিনের পর একবার করে কিছুদিন খাওয়ালে উপকার পাওয়া যায়।

আবার এই রসটি আধ কাপ গরম দুধে মিশিয়ে তাতে আধ চা-চামচ ঘি দিয়ে খাওয়ানো যেতে পারে। তিন মাসের মতো খেলে উপকার পাওয়া যায়। ব্রাহ্মী শাক ১০ থেকে ১২ গ্রাম ঘিয়ে ভেজে ভাতের প্রথম পাতেও খাওয়ানো যেতে পারে। আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুযায়ী জানানো হয়েছে, হুপিং কাশিতে এটি কার্যকরী। বাচ্চাদের এই কাশি বেশি হয়। ব্রাহ্মী শাকের রস সামান্য গরম করে তা থেকে বয়সানুপাতে এক চা-চামচ মধুর সঙ্গে মিশিয়ে দিনে ২ বার ৫ থেকে ৭ দিন খাওয়ালে হুপিং কাশি সেরে যায়।
গলা বসার ক্ষেত্রেও ব্রাহ্মী শাক খুবই উপকারী।

প্রায়ই গলা ভেঙে যাওয়া বা গলা বসে যাওয়ার সমস্যা অনেকেরই রয়েছে। এমন হলে ব্রাহ্মী শাকের রস সামান্য গরম করার পর তা থেকে ২-৪ চা-চামচ মাত্রা নিয়ে তাতে এক চামচ মধু মিশিয়ে দিনে ২ বার খাওয়ানো যেতে পারে। পাশাপাশি লবণ জলে মিশিয়ে দিনে ২ থেকে ৩ বার গার্গল করতে হবে। মৃগীরোগে, গেঁটে বাত, কোষ্ঠবদ্ধতা-সহ কয়েকটি রোগের ক্ষেত্রে এই শাক ব্যবহার করা যায়। আয়ুর্বেদ চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই শাক ঘিয়ে ভেজে বা রান্না করে খেতে পারলে মস্তিষ্কে কোনও মারাত্মক রোগ আসতে পারবে না। স্মৃতিলোপ, ভুলে যাওয়া ও অ্যালঝাইমার্স প্রভৃতি রোগের ক্ষেত্রে এই শাক অত্যন্ত উপকারী।

Related posts

Leave a Comment